বুধবার, ১৯ জুন, ২০২৪, ৫ আষাঢ়, ১৪৩১
Live TV
সর্বশেষ

৪৮ বছর জেল খাটার পর প্রমাণ হলো তিনি নির্দোষ

দৈনিক দ্বীনের আলোঃ
২১ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ | 72
৪৮ বছর জেল খাটার পর প্রমাণ হলো তিনি নির্দোষ
২১ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ | 72

১৯৭৪ সালে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হন আমেরিকার গ্লিন সিমন্স। বিচারে দোষীসাব্যস্ত হয়ে ৪৮ বছর ধরে কারাভোগ করেছেন তিনি। গত জুলাইয়ে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। আর চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার আদালত সিমন্সকে নির্দোষ ঘোষণা করে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্লিন সিমন্সের বয়স এখন ৭০ বছর। ১৯৭৫ সালে যখন হত্যা মামলায় তাঁকে দোষীসাব্যস্ত করে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয় তখন তাঁর বয়স ছিল ২২ বছর। সিমন্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ১৯৭৪ সালে ওকলাহোমা সিটির উপকণ্ঠে একটি মদের দোকানে ডাকাতির সময় তিনি এবং তাঁর সহযোগী ডন রবার্টস মিলে ক্যারোলিন সু রজার্স নামের এক নারীকে হত্যা করেন।

এই মামলার রায়ে প্রথমে সিমন্সকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও পরে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এরপর থেকে সিমন্স ৪৮ বছর এক মাস ১৮ দিন জেল খাটেন। সিমন্সই এখন পর্যন্ত আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করা নির্দোষ ব্যক্তি।

শুরু থেকেই সিমন্স দাবি করেন, তিনি হত্যাকাণ্ডের সময় নিজ রাজ্য লুইজিয়ানায় ছিলেন। কিন্তু এই দাবি এতদিন তিনি প্রমাণ করতে পারছিলেন না। অবশেষে এ বছর জুলাইয়ে একটি ডিস্টিক্ট আদালত সিমন্সের সাজা বাতিল করে। রায়ে বলা হয়, প্রসিকিউটররা বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের কাছে এই মামলার সব প্রমাণ তুলে দেননি। তাছাড়া মামলার একজন সাক্ষী অন্য আরও কয়েকজনকেও সন্দেহভাজন হিসেবে সনাক্ত করেছিল। সিমন্স ও রবার্টসের শাস্তি হয়েছিল এক অপ্রাপ্ত বয়স্ক সাক্ষীর সাক্ষ্যতে। ডাকাতির ঘটনার সময় সে গুলি খেয়েছিল। ওই সাক্ষীকে পুলিশ সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করার জন্য নিয়ে আসলে সিমন্স ও রবার্টসসহ কয়েকজনকে সনাক্ত করে। রবার্টস ২০০৮ সালে প্যারলে মুক্তি পান।

গত মঙ্গলবার ওকলাহোমা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট জজ অ্যামি পালুমবো সিমন্সকে নির্দোষ ঘোষণা করেন। রায়ে বিচারক বলেন, ‘ সিমন্স যে অপরাধে দোষীসাব্যস্ত হয়ে কারাভোগ করেছেন, তিনি সেই অপরাধ করেননি। এ বিষয়ে স্পষ্ট এবং সন্তোষজনক প্রমাণ পেয়েছে আদালত।’

এদিকে নির্দোষ ঘোষণা রায়ের পর সিমন্স বলেন, ‘এটি সহনশীলতা এবং দৃঢ়তার একটি শিক্ষা। এটিকে অসম্ভব বলবেন না। কারণ, এটা সত্যিই সম্ভব হয়েছে।’

সিমন্স বর্তমানে লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত। তিনি ‘গো ফান্ড মি’ প্রজেক্টের মাধ্যমে অনুদান সংগ্রহ করে নিজের চিকিৎসা চালাচ্ছেন।

ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যে ভুল বিচারে কারাভোগ করা ব্যক্তিরা ক্ষতিপূরণ হিসেবে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৭৫ হাজার ডলার পান। সিমন্সও এখন এই ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।

error: Content is protected !!