বুধবার, ১৯ জুন, ২০২৪, ৫ আষাঢ়, ১৪৩১
Live TV
সর্বশেষ

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও দুদকে কে এম মাসুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

দৈনিক দ্বীনের আলোঃ
২০ মে, ২০২৪, ১:৪০ অপরাহ্ণ | 41
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও দুদকে কে এম মাসুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
২০ মে, ২০২৪, ১:৪০ অপরাহ্ণ | 41

মো লুৎফুর রহমান রাকিব

সরকারি জমি দখল করে সেবা গ্রীন ফিলিং স্টেশন এবং মাসুদ স্টিল ডিজাইন বিডি লিঃ নির্মাণ। পরিবহন ও আদম ব্যবসার অন্তরালে ইয়াবা, গাঁজা এবং স্বর্ণ চোরাকারবার এবং ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির সাথে সম্পৃক্ত কে এম মাসুদুর রহমানের আয় বর্হিভূত হাজার কোটি টাকা ও অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও দুদক চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করা হয়েছে।

একজন বীর প্রতীক, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী কর্তৃক সম্প্রতি প্রেরিত এই আবেদনপত্রে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানাধীন মহেশপুর ইউনিয়নের ব্যাসপুর নিবাসী রাজিয়া খান “রানি”র ছেলে নামে পরিচিত “মাসুদ”। উক্ত রাণী অবৈধ অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে ভাসুরের ছেলে (ভাতিজা) আবুল খায়ের খান (ছাবু খাঁর) সাথে পালিয়ে ঢাকায় আসে, সেই ভাতিজার অবৈধ ঘরে জন্ম নেওয়া সন্তানের নাম কে.এম মাসুদুর রহমান মাসুদ। মাসুদের মা রানি ঢাকায় এসে বিভিন্ন আদম ব্যবসার অফিসে মেডিকেলের কাজ করে সংসার চালাতো। মাসুদের মা বিভিন্ন লোক ধরে মাসুদকে আদম অফিসে পিয়ন চাকরি দেয়, এর কিছুদিন পর তার মা রানি লোক ধরে মাসুদকে মালয়েশিয়া পাঠায়। সেখান থেকে এই ধান্দাবাজ মাসুদ মালয়েশিয়ান এক নারীর সাথে লিভ টুগেদার করে সেই নারীর বেশ কিছু টাকা আত্মসাৎ করে দেশে এসে লুৎফুন্নাহার রুনা নামের এক মহিলাকে বিবাহ করে। সেই ঘরে মাসুদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয় যার নাম ওয়াছি ছামি।

মাসুদ উত্তরা নিকুঞ্জে একটি “সেবা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর” নামে দোকান দিয়ে এর অন্তরালে শুরু করেছিল ফেন্সিডিল, বিয়ার, মদ, গাঁজার ও হেরোইন ব্যবসা। অপরদিকে লক্ষ্মীপুর জেলার রফিক উল্লাহর রিক্রটিং লাইসেন্স ফ্লাওয়ার ট্রেড ইন্টাঃ কে ব্যবহার করে মাসুদ আদম ব্যবসার নামে প্রতরনা ও জালিয়াতি করে রফিক উল্লাহকে বিপদে ফেলে। এই শোকে রফিক উল্লাহ ব্রেইন স্ট্রোক করে মারা যায়। এরপর মাসুদ ভয়ভীতি দেখিয়ে রফিক উল্লাহর পরিবারকে ঢাকা ছাড়া করে।

মাসুদ আদম ব্যবসার নামে বিভিন্ন নারী ও শিশু পাচার শুরু করে সেই সাথে হেরোইন ও স্বর্ণ চোরাচালান ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। বর্তমান ক্ষমতাশীন আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির ছত্রছায়া পরিত্যাগ করে মাসুদ রাতারাতি আওয়ামী লীগার হয়ে যায়। এই কাজে কতিপয় অসৎ ব্যক্তিদের ব্যবহার করে, এক পর্যায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাবেক বিশেষ সহকারী সেলিনা খাতুনকে কৌশলে ব্যবহার করে। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মোল্যা কাওছার ও পঙ্কজ দেবনাথকে মাসোহরা দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের অর্থ সম্পাদক পদটি বাগিয়ে নিয়ে মাসুদ বেপরোয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে বটগাছে রুপ নেয়।

কাওছার মোল্যাকে ব্যবসার পার্টনার বানিয়ে যত্রতত্র তাকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে এবং এরই অংশ হিসাবে ক্যাসিনো ব্যবসার সরঞ্জাম আনা সহ অবৈধ ব্যবসা ও চাঁদাবাজীসহ। বিশেষ করে, কাওছার মোল্যাকে নিয়ে বিভিন্ন তদবীর বাণিজ্যসহ নানা অপকর্মে ব্যবহার করতে শুরু করে এই মাসুদ, তাছাড়া ইয়াবার বড় বড় চালান সড়ক ও নৌ পথে কখোনো আবার বিমানে করে নিয়ে আসতো মাসুদ ও তার সিন্ডিগেট। ইতিমধ্যে এই মাসুদ প্রভাব খাটিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করেছে গাজীপুরের বেবী নামের এক মহিলাকে কৌশলে ভাগিয়ে নিয়ে বিবাহ করে ভন্ড প্রতারক কে.এম. মাসুদ। সেই ঘরে সিমরান, শানু ও সনু নামে তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে। মাসুদের শ্বশুর-শাশুড়ী, বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তানদের প্রত্যেকের নামে দেশে বিদেশে অঢেল সম্পদ রয়েছে।

মাসুদের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায় হওয়ায় এবং আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের অর্থ সম্পাদক পদ দখলে থাকায় নোমান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালকের পদটি ভাগিয়ে নিয়ে রাতারাতি বিভিন্ন ব্যাংক লোন নিয়ে সেখান থেকে কোটি কোটি টাকা লুটে নিয়েছে মাসুদ। শুধু তাই নয়, সব নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে সেবা গ্রীন নাম দিয়ে প্রায় শতাধীক বাস নামিয়েছে এবং নিয়ম বর্হিভুত ভাবে ইসলামী ব্যাংক থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়েছে। এই সেবা গ্রীন লাইন পরিবহন নামে দক্ষিণ অঞ্চলে যে গাড়ী নামিয়েছে মাসুদ যার সব গাড়িতে ইয়াবা আর গাজাসহ নানা ধরনের অবৈধ পণ্য পাচার এবং সরবরাহ করে দক্ষিণ অঞ্চলকে মাদকের স্বর্গ রাজ্যে পরিণত করেছে মাসুদ।

এ কারণে সেবা গ্রীন লাইন গাড়িগুলো এতই বেপরোয়া ভাবে চলে যে সেবা গ্রীন লাইন পরিবহন প্রায় দুর্ঘটনা ঘটায় যার অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে।

মাসুদের রাতারাতি হাজার কোটি টাকার মালিক হওয়ার পেছনে রয়েছে একজন সাবেক সচিব সিরাজুল হক খান। যিনি মাসুদকে ব্যাপক সহায়তা করেছে এবং এক পর্যায়ে উক্ত সাবেক সচিব মাসুদের ব্যবসায়ীক পার্টনারও হয়েছে। যিনি হলেন সাবেক স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান প্রযুক্ত সচিব সিরাজুল হক খান। কথিত আছে এই সিরাজুল হক যিনি সচিব থাকা অবস্থায় বিদেশী দুটি ফান্ডের প্রায় চারশত কোটি টাকা আত্মসাৎ করে এবং সেই টাকা মাসুদের কাছে রেখে তিনি এখন মাসুদের ব্যবসায়িক পার্টনার হয়েছে।

উক্ত সাবেক সচিব বর্তমানে মাসুদের সেবা ফিলিং স্টেশন উত্তরা আশুলিয়া বেড়িবাধ সংলগ্ন সরকারি জমি দখল করে নির্মিত সেবা ফিলিং ও সিএনজি স্টেশনের পার্টনার। এছাড়া গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের দাসের হাটে সরকারি জায়গাসহ বাচ্চাদের খেলার মাঠ দখল করে এবং পূজা মন্ডপের জায়গা দখল করে হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট ও সেবা ফিলিং স্টেশন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে মাসুদ ও তার পার্টনারেরা। গাজীপুরের হোতাপাড়া বাস স্ট্যান্ড এর পশ্চিমে ফিরোজ আলী নামক স্থানে তিন শত (৩০০) একর জমি নিয়ে গড়ে উঠেছে বর্ণীত মাসুদ স্টিল ডিজাইন বিডি লিঃ এবং উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরে ৭/৮টি আট তলা নান্দনিক বাড়ি মাসুদ ও তার পার্টনার সিরাজুল হক খানের রয়েছে।

এছাড়া গাজীপুর, আশুলিয়া ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও কক্সবাজার-চট্টগ্রামসহ দেশের উত্তর ও দক্ষিন অঞ্চলে শত শত বিঘা জায়গা-জমি ক্রয় করেছে। মাসুদ ও তার আত্মীয়স্বজন পরিবার পরিজন এবং সহযোগি পার্টনারদের নামে বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়েছে, তাছাড়া বিদেশে ও তাদের একাধিক বাড়ি ও সম্পদ রয়েছে যা তদন্তে আরো অনেক অজানা তথ্য বেরিয়ে আসবে।

বর্ণিত বিষয়গুলোর আলোকে জরুরি ভিত্তিতে কে.এম. মাসুদুর রহমান ও তার পরিবারের সকল সদস্যসহ উল্লেখিত সহযোগী ও পার্টনারদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানের আলোকে জরুরি কার্যকরি ব্যবস্থা নিলে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

error: Content is protected !!